ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাভেদ মিয়া (৩৫) নামে এক চাউল ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দোকান থেকে নগদ ৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর ) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে সদর মডেল থানাধীন আনন্দ বাজারের মেসার্স আব্দুর রউফ এন্ড সন্স নামের চাউলের দোকানে।
বাদী মোঃ খায়েশ মিয়ার দায়ের করা এজাহারে জানা যায়, আগের দিন চাউল বিক্রি নিয়ে দোকানের অংশীদার তার ভাই জাভেদ মিয়ার সাথে পাশের ব্যবসায়ী মোঃ জালাল মিয়া ও তার ছেলে আরাফাত রহমান প্রভাশের বিরোধ হয়। এর জের ধরে শুক্রবার দুপুরে জালাল মিয়া, আরাফাত রহমান প্রভাশসহ কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় দোকানে হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং পরে বাইরে এনে লোহার রড ও চাপাতি দিয়ে জাভেদ মিয়াকে রক্তাক্ত জখম করে। তার মাথায় চাপাতির কোপে গভীর কাটা জখম হয়, যাতে নয়টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া লোহার রডের আঘাতে তার নাক ও মাথার হাড় ভেঙে যায়।
হামলার সময় আসামিরা দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বৃদ্ধ পিতা বাধা দিলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জাভেদ মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার পর বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজে হামলাকারীদের চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে হামলা করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
তারা হলেন—নাটাই গ্রামের মৃত ছামাদ মিয়ার ছেলে মোঃ জালাল মিয়া তার ছেলে মোঃ আরাফাত রহমান প্রভাশ নাটাই দক্ষিণ বড় হরণ গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার ওসমান মিয়া
শহরের ভাদুঘর এলাকার নিয়ামত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 










