ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বিজয়নগরে স্বামীর সঙ্গে অভিমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেতন-ভাতা ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ইপিআই পোর্টারদের মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলো তরী বাংলাদেশ বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর কসবায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান ও গলা কেটে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণগ্রহীতা আবদুল কাদির গ্রেফতার আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজা পাচারকালে মা-ছেলে গ্রেফতার রমজানের অনুপ্রেরণায় সাতটি রোজা সম্পন্ন করেছে মুহাম্মদ আয়ানুর রহমান তার সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা পরিবারের এতিমদের সম্মানে সদর হাসপাতাল কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত, শিগগিরই আহ্বায়ক কমিটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজের একমাত্র সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর বর্তমান কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকালে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন সংগঠনের প্যাডে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মাওলানা রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও কাজী আরমান আদনানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন জানান, আগামী বছর (২০২৬) নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। তবে সেই কমিটিতে স্থান পাবেন কেবল তারাই, যারা ২৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে নিয়মিতভাবে বেওয়ারিশ লাশ দাফন কার্যক্রমে সরাসরি মাঠে অংশগ্রহণ করবেন।

ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, “অলস, নিষ্ক্রিয়, নামধারী বা বাহাদুরি দেখানোর জন্য যারা আসবেন, তাদের জন্য বাতিঘরে কোনো স্থান নেই। সদস্যপদ কেবল কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হবে; কোনো সুপারিশ বা প্রভাব নয়।”

তিনি আরও জানান, সংগঠনের নীতি ভঙ্গ বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি সংগঠনের বাইরে কেউ ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ নাম ব্যবহার করলে সেটিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কোভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকে যারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন, অজ্ঞাত রোগীদের সেবা, অক্সিজেন সেবা, বিনামূল্যে রক্তদান ও অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখেছেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন আরও বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর অরাজনৈতিক সংগঠন। বাতিঘর কোনো রাজনৈতিক দলের তোষামোদ, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রচারের স্থান নয়। সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে, সততা ও মানবিকতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। নেতৃত্ব ও সম্মান তাদেরই প্রাপ্য, যারা নিরলসভাবে মাঠে থেকে বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অজ্ঞাত রোগীদের সেবায় যুক্ত থাকেন।”

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর জেলার বিভিন্ন থানা থেকে প্রেরিত ২২০টি অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং ৫ শতাধিক অজ্ঞাত রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

বিজয়নগরে স্বামীর সঙ্গে অভিমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত, শিগগিরই আহ্বায়ক কমিটি

Update Time : ০৩:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বেওয়ারিশ লাশ দাফনকাজের একমাত্র সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর বর্তমান কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকালে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন সংগঠনের প্যাডে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মাওলানা রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও কাজী আরমান আদনানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন জানান, আগামী বছর (২০২৬) নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। তবে সেই কমিটিতে স্থান পাবেন কেবল তারাই, যারা ২৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে নিয়মিতভাবে বেওয়ারিশ লাশ দাফন কার্যক্রমে সরাসরি মাঠে অংশগ্রহণ করবেন।

ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, “অলস, নিষ্ক্রিয়, নামধারী বা বাহাদুরি দেখানোর জন্য যারা আসবেন, তাদের জন্য বাতিঘরে কোনো স্থান নেই। সদস্যপদ কেবল কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হবে; কোনো সুপারিশ বা প্রভাব নয়।”

তিনি আরও জানান, সংগঠনের নীতি ভঙ্গ বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি সংগঠনের বাইরে কেউ ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ নাম ব্যবহার করলে সেটিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কোভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকে যারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন, অজ্ঞাত রোগীদের সেবা, অক্সিজেন সেবা, বিনামূল্যে রক্তদান ও অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখেছেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন আরও বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর অরাজনৈতিক সংগঠন। বাতিঘর কোনো রাজনৈতিক দলের তোষামোদ, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রচারের স্থান নয়। সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে, সততা ও মানবিকতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। নেতৃত্ব ও সম্মান তাদেরই প্রাপ্য, যারা নিরলসভাবে মাঠে থেকে বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অজ্ঞাত রোগীদের সেবায় যুক্ত থাকেন।”

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর জেলার বিভিন্ন থানা থেকে প্রেরিত ২২০টি অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং ৫ শতাধিক অজ্ঞাত রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।