ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কাজিমুড়া গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে একই পরিবারের দুই বোনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। একই জমিকে কেন্দ্র করে পৃথক সময়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হলেও বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলাটি গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে শরিফা বেগম দায়ের করেন। পরে ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে একই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে নিলুফা আক্তার পৃথক আরেকটি মামলা করেন। উভয় মামলায় বিজয়নগর উপজেলার কাজিমুড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নং-৫২ এবং দাগ নং-১১৮, ১১৯ ও ১২৫-এর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, অনুপ্রবেশ এবং সংঘর্ষের আশঙ্কার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
দুটি মামলাতেই আদালত বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে ওসি তদন্তের দায়িত্ব এসআই জালালের ওপর অর্পণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তদন্তের শুরুতে এসআই জালাল বিরোধপূর্ণ জমিতে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে তাদের বক্তব্য শোনেন। এ সময় বিবাদীপক্ষের পক্ষে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসাইন সাত দিনের মধ্যে গ্রামে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন।
তবে বাদীপক্ষের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সালিশ অনুষ্ঠিত হয়নি। বরং বিবাদী বিদেশে চলে যান, সালিশে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরে পুনরায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জমি-সংক্রান্ত এ বিরোধকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিবাদীপক্ষের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসাইন বলেন, “থানায় এসআই জালালের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু বিবাদী বাড়িতে এসে জানান, তিনি কোনো বিচার মানবেন না। পরে তিনি বিদেশে চলে যান।”
News Title :
জমি নিয়ে দুই বোনের পৃথক মামলা, আদালতের নির্দেশেও থামেনি নির্মাণকাজ
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - Update Time : ০৮:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- ১৩ Time View
Tag :










