ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ডায়াবেটিক সমিতির ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী। ডায়াবেটিক সমিতির ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়ায় শ্যামল এমপিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অভিনন্দন জমি নিয়ে দুই বোনের পৃথক মামলা, আদালতের নির্দেশেও থামেনি নির্মাণকাজ এফসিপিএস উচ্চতর প্রশিক্ষণে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে যোগ দিলেন ডা. মো. সোলায়মান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপিকে জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ফুলেল শুভেচ্ছা মালদ্বীপে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষাবিদ আহমেদ মুত্তাকী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নওয়াব আলী মাস্টার জামে মসজিদের শুভ উদ্বোধন নারীদের ভূমি অধিকার ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত এআরডি-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠক   

আশুগঞ্জে মায়ের পরকীয়ার কলঙ্কে কিশোরীর আত্মহত্যা!

Oplus_16908288

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক কলঙ্কজনিত কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে তামান্না নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দেয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত তামান্না উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের দগরিসার গ্রামের মো. কামাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে তামান্নার মা পাখি আক্তার দগরিসারের একটি বেকারির কর্মচারী ও ময়মনসিংহের আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকেই তামান্না সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হচ্ছিল। একদিকে মায়ের পরকীয়া নিয়ে গ্রামজুড়ে গুঞ্জন, অন্যদিকে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের তির্যক দৃষ্টিভঙ্গি, সব মিলিয়ে গভীর মানসিক চাপে পড়ে যায় সে। এসব অপমান ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তামান্না আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারের বড়দের ভুলের খেসারত শেষ পর্যন্ত সন্তানকে দিতে হলো, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

ডায়াবেটিক সমিতির ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী।

আশুগঞ্জে মায়ের পরকীয়ার কলঙ্কে কিশোরীর আত্মহত্যা!

Update Time : ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক কলঙ্কজনিত কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে তামান্না নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দেয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত তামান্না উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের দগরিসার গ্রামের মো. কামাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে তামান্নার মা পাখি আক্তার দগরিসারের একটি বেকারির কর্মচারী ও ময়মনসিংহের আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকেই তামান্না সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হচ্ছিল। একদিকে মায়ের পরকীয়া নিয়ে গ্রামজুড়ে গুঞ্জন, অন্যদিকে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের তির্যক দৃষ্টিভঙ্গি, সব মিলিয়ে গভীর মানসিক চাপে পড়ে যায় সে। এসব অপমান ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তামান্না আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারের বড়দের ভুলের খেসারত শেষ পর্যন্ত সন্তানকে দিতে হলো, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।