ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
রমজানের অনুপ্রেরণায় সাতটি রোজা সম্পন্ন করেছে মুহাম্মদ আয়ানুর রহমান তার সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা পরিবারের এতিমদের সম্মানে সদর হাসপাতাল কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান সূর্যমুখীকিন্ডার গার্টেন এন্ড গার্লস হাইস্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত চেয়ার মার্কা প্রার্থী আয়েশা আক্তারের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মী সভা রেজাউল হক বুলুর অকাল প্রয়াণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের শোক ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্সের মেয়াদ পূর্তির ৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার চেক পেলেন এস এম সেলিম ইদ্রিস শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে যুক্তরাজ্য কৃষকদলের পুষ্পস্তবক অর্পণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে ১০০টি কম্বল প্রদান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দৈনিক ইত্তেফাকের ৭৩ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আশুগঞ্জে মায়ের পরকীয়ার কলঙ্কে কিশোরীর আত্মহত্যা!

Oplus_16908288

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক কলঙ্কজনিত কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে তামান্না নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দেয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত তামান্না উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের দগরিসার গ্রামের মো. কামাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে তামান্নার মা পাখি আক্তার দগরিসারের একটি বেকারির কর্মচারী ও ময়মনসিংহের আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকেই তামান্না সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হচ্ছিল। একদিকে মায়ের পরকীয়া নিয়ে গ্রামজুড়ে গুঞ্জন, অন্যদিকে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের তির্যক দৃষ্টিভঙ্গি, সব মিলিয়ে গভীর মানসিক চাপে পড়ে যায় সে। এসব অপমান ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তামান্না আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারের বড়দের ভুলের খেসারত শেষ পর্যন্ত সন্তানকে দিতে হলো, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

Popular Post

রমজানের অনুপ্রেরণায় সাতটি রোজা সম্পন্ন করেছে মুহাম্মদ আয়ানুর রহমান তার সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা পরিবারের

আশুগঞ্জে মায়ের পরকীয়ার কলঙ্কে কিশোরীর আত্মহত্যা!

Update Time : ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক কলঙ্কজনিত কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে তামান্না নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দেয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত তামান্না উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের দগরিসার গ্রামের মো. কামাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে তামান্নার মা পাখি আক্তার দগরিসারের একটি বেকারির কর্মচারী ও ময়মনসিংহের আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকেই তামান্না সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হচ্ছিল। একদিকে মায়ের পরকীয়া নিয়ে গ্রামজুড়ে গুঞ্জন, অন্যদিকে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের তির্যক দৃষ্টিভঙ্গি, সব মিলিয়ে গভীর মানসিক চাপে পড়ে যায় সে। এসব অপমান ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তামান্না আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক কটূক্তি ও মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তামান্না আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারের বড়দের ভুলের খেসারত শেষ পর্যন্ত সন্তানকে দিতে হলো, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।