ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতকরণে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সেমিনার নবিনগর কনিকাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়নে পরামর্শ সভা নবীনগরে বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী র‍্যালি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পরিবেশ সেবার মানোন্নয়নে এসিজির সঙ্গে মতবিনিময় তিতাস নদীতে বিপদে পড়া নারীকে সাহসিকতায় উদ্ধার করলেন পুলিশ কনস্টেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজ্ঞান ক্লাব টেকসইকরণে সেমিনার নবীনগরে শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার সরাইলে সিএনজিতে ইয়াবা পাচারের সময় ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ ভূমি জটিলতা নিরসনে জনসচেতনতার পাশাপাশি সেবাদাতাদের আরও আন্তরিক হতে হবে এসএসসিতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন অধরা
#brahmanbarianews

কবি মহিবুর রহিম আর নেই!

Oplus_16777216

কবি, প্রাবন্ধিক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক মহিবুর রহিম আর নেই। গত বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাউতলীতে নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটায় কাউতলী জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামেরও সেখানে বাদ যোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
কবি মহিবুর রহিম স্ত্রী, তিন পুত্রসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মহিবুর রহিম ছিলেন বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। কাব্য চর্চার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য বিশ্লেষক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১৯৭৩ সালের ১৫ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহিবুর রহিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
সাহিত্যজীবনে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত চোখ, হে অন্ধ তামস, অনাবাদি কবিতা, দুঃখগুলো অনাদির বীজপত্র, সবুজ শ্যামল মন, শিমুল রোদে রঙিন দিন, হৃদয়ে আমার কোন মন্দা নেই, হাওর বাংলা এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ ভাটি বাংলার লোকভাষা ও লোকসাহিত্য।
লোকসাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়েও তাঁর গবেষণা ছিল বিস্তৃত। কুমিল্লা অঞ্চলের লোকসংগীত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য, ভাটি বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জাতীয় সাংস্কৃতিক সমীক্ষা গ্রন্থমালা। বাংলা একাডেমির লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ কর্মসূচির অধীনে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য’ নিয়েও তিনি গবেষণা করেন।
সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহিবুর রহিম পেয়েছেন প্রজ্ঞা শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পদক, স্মৃতি ৫২ সম্মাননা, রকি সাহিত্য পদক ২০১১, মেঠোপথ সাহিত্য পদক ২০১৩, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহিত্য পদক ২০১৪, সুকুমার রায় সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা ২০১৮, আল মাহমুদ সাহিত্য সম্মাননা ২০২৪-সহ নানা সাহিত্যিক ও গবেষণা সংস্থার পক্ষ থেকে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।
কবি মহিবুর রহিম তাঁ দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদের সাহচর্য লাভ করেন। কবি মহিবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মুবারক হোসাইন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবীণ নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতকরণে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সেমিনার

#brahmanbarianews

কবি মহিবুর রহিম আর নেই!

Update Time : ০৩:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
কবি, প্রাবন্ধিক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক মহিবুর রহিম আর নেই। গত বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাউতলীতে নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটায় কাউতলী জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামেরও সেখানে বাদ যোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
কবি মহিবুর রহিম স্ত্রী, তিন পুত্রসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মহিবুর রহিম ছিলেন বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। কাব্য চর্চার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য বিশ্লেষক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১৯৭৩ সালের ১৫ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহিবুর রহিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
সাহিত্যজীবনে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত চোখ, হে অন্ধ তামস, অনাবাদি কবিতা, দুঃখগুলো অনাদির বীজপত্র, সবুজ শ্যামল মন, শিমুল রোদে রঙিন দিন, হৃদয়ে আমার কোন মন্দা নেই, হাওর বাংলা এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ ভাটি বাংলার লোকভাষা ও লোকসাহিত্য।
লোকসাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়েও তাঁর গবেষণা ছিল বিস্তৃত। কুমিল্লা অঞ্চলের লোকসংগীত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য, ভাটি বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জাতীয় সাংস্কৃতিক সমীক্ষা গ্রন্থমালা। বাংলা একাডেমির লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ কর্মসূচির অধীনে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য’ নিয়েও তিনি গবেষণা করেন।
সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহিবুর রহিম পেয়েছেন প্রজ্ঞা শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পদক, স্মৃতি ৫২ সম্মাননা, রকি সাহিত্য পদক ২০১১, মেঠোপথ সাহিত্য পদক ২০১৩, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহিত্য পদক ২০১৪, সুকুমার রায় সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা ২০১৮, আল মাহমুদ সাহিত্য সম্মাননা ২০২৪-সহ নানা সাহিত্যিক ও গবেষণা সংস্থার পক্ষ থেকে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।
কবি মহিবুর রহিম তাঁ দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদের সাহচর্য লাভ করেন। কবি মহিবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মুবারক হোসাইন।