ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেতন-ভাতা ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ইপিআই পোর্টারদের মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলো তরী বাংলাদেশ বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর কসবায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান ও গলা কেটে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণগ্রহীতা আবদুল কাদির গ্রেফতার আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজা পাচারকালে মা-ছেলে গ্রেফতার রমজানের অনুপ্রেরণায় সাতটি রোজা সম্পন্ন করেছে মুহাম্মদ আয়ানুর রহমান তার সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা পরিবারের এতিমদের সম্মানে সদর হাসপাতাল কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান
#brahmanbarianews

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউট অনিয়মই যেখানে নিয়ম! 

Oplus_16777216

ক্লাস করার নাম নেই শিক্ষকদের। বই দেখে পরীক্ষা দেয়াতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। আরো আছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। সেকারনে দেশের ৪৯টি নার্সিং ইনষ্টিটিউট ও কলেজের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউট। 
অভিযোগ রয়েছে, ৮জন শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই ইনষ্টিটিউটে আসেননা মাসের পর মাস। কেউ কেউ আছেন নার্সিংয়ের কয়টি বিষয় সেটিও বলতে পারার মতো সক্ষম নন। এমন শিক্ষকও আছেন রিডিংও পড়তে পারেননা। মোশাররফ হোসেন নামের একজন প্রশিক্ষক সরকারী চাকুরীতে থেকেও বেসরকারী নার্সিং ইনষ্টিটিউটের এমডি পদে রয়েছেন। সেটিতেই কাজকর্মে নিয়োজিত তিনি।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারীর প্রায় ৩৫৮ জন শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানে একজন ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জ এবং ৮ জন প্রশিক্ষক রয়েছেন। এই প্রশিক্ষকদের মধ্যে নানা অভিযোগে আলোচিত প্রশিক্ষক মোশারফ হোসেন, তার স্ত্রী প্রশিক্ষক তানজিনা খানম, মোসাম্মৎ তাহেরা বেগম ও মোহছেনা বেগম (১)। ইনষ্টিটিউটে আসলেও ক্লাস করেননা তাদের কেউই। তাদের মধ্যে নার্সিং ইনষ্টিটিউটে ২০১৩ সালের ২১ আগষ্ট থেকে ডেপুটেশনে রয়েছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র ষ্টাফ নার্স তানজিনা খানম ও ২০২৩ সাল থেকে মোসাম্মৎ তাহেরা বেগম। বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহছেনা বেগম(১) এখানে ডেপুটেশনে রয়েছেন ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারী থেকে। মোশারফ হোসেন ২০১৬ সালের ২ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউটে যোগ দেন।
অভিযোগ মিলেছে প্রশিক্ষক মোশারফের নেতৃত্বে একটি চক্র এই ইনষ্টিটিউটকে অনিয়মের আখড়ায় পরিনত করেছেন। সেকারনে ইনষ্টিটিউটকে সুষ্টু ব্যবস্থাপনায় ফেরাতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয় এক ইনস্ট্রাকটর ইনচার্জকে। সালাউদ্দিন মাতবর নামের ওই ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জকে এই চক্রটি নানা ভাবে হেনস্থা করে বিদেয় করে। ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রæয়ারী তিনি এখানে যোগদান করেন। এরপর ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বদলী হয়ে যান। তার পরবর্তীতে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হয়ে আসা মোসাম্মৎ মিরন্নাহার বেগমও রয়েছেন আতঙ্কে।
সুত্র জানায়, নতুন ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জ পদে যোগদান করার পর তার কাছে আগের নিয়মে অর্থাৎ নকল করে পরীক্ষা দেয়ার আবদার নিয়ে আসে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। মিরন্নাহার তাদের আবেদনে সারা না দেয়ায় বাধ্য হয় স্বাভাবিক নিয়মেই পরীক্ষা দিতে হয়। ৩য় বর্ষের পরীক্ষার্থীরা বলে আগের নিয়মে পরীক্ষা নিতে হবে। ফাষ্ট ইয়ারে অনেক পড়াশুনা করছি। স্যাররা অবজেকটিভ বলে দেয়। বই দেখে উত্তর লিখতে দেয়া হয়। নকলমুক্ত পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার সময় ৩০ জন করে লোক নিয়োগ দেয়া হয় নকল সরবরাহের জন্য। বেসরকারী নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিতাস নার্সিং কলেজ, ইউনাইটেড নার্সিং কলেজ ও মাহবুবুর রহমান নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র এটি। ছুটির ক্ষেত্রেও নিয়মের বালাই নেই। বছরে ২৮ দিন ছুটির স্থলে ৩ মাসও কাটিয়েছে অনেকে। শহরে মোশারফের বহুতল বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকে ছাত্ররা। সেকারনে তাদেরকে ব্যবহার করে নার্সিং ইনষ্টিটিউটে বিভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জ মোসাম্মৎ মিরন্নাহার বেগম এখানে যোগদান করার পর এ বছরের ১৬ জানুয়ারী এবং ২২ জুন দুটি অফিস আদেশ করেন। যাতে নার্সিং ইনষ্ট্রাক্টরদের অফিস সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থেকে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস, ল্যাব এবং হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস পরিদর্শনসহ অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে বলা হয়।
নার্সিং প্রশিক্ষক মোশারফ হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এটি আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এর সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করবোনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিং ইনষ্টিটিউট ইনষ্ট্রাকটর ইনচার্জ মোসাম্মৎ মিরন্নাহার বেগম বলেন, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্য্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম চলছে এখানে। অনিয়মকেই এখানে নিয়ম বানানো হয়েছে। শিক্ষকরা ক্লাসে আগ্রহী নন। অনিয়মগুলো কিভাবে দূর করা যায় তা নিয়ে শিক্ষকদের একাধিক বার বৈঠক করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের ক্লাসে পাঠাতে পারিনি।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেতন-ভাতা ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ইপিআই পোর্টারদের মানববন্ধন

#brahmanbarianews

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউট অনিয়মই যেখানে নিয়ম! 

Update Time : ০২:০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
ক্লাস করার নাম নেই শিক্ষকদের। বই দেখে পরীক্ষা দেয়াতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। আরো আছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। সেকারনে দেশের ৪৯টি নার্সিং ইনষ্টিটিউট ও কলেজের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউট। 
অভিযোগ রয়েছে, ৮জন শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই ইনষ্টিটিউটে আসেননা মাসের পর মাস। কেউ কেউ আছেন নার্সিংয়ের কয়টি বিষয় সেটিও বলতে পারার মতো সক্ষম নন। এমন শিক্ষকও আছেন রিডিংও পড়তে পারেননা। মোশাররফ হোসেন নামের একজন প্রশিক্ষক সরকারী চাকুরীতে থেকেও বেসরকারী নার্সিং ইনষ্টিটিউটের এমডি পদে রয়েছেন। সেটিতেই কাজকর্মে নিয়োজিত তিনি।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারীর প্রায় ৩৫৮ জন শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানে একজন ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জ এবং ৮ জন প্রশিক্ষক রয়েছেন। এই প্রশিক্ষকদের মধ্যে নানা অভিযোগে আলোচিত প্রশিক্ষক মোশারফ হোসেন, তার স্ত্রী প্রশিক্ষক তানজিনা খানম, মোসাম্মৎ তাহেরা বেগম ও মোহছেনা বেগম (১)। ইনষ্টিটিউটে আসলেও ক্লাস করেননা তাদের কেউই। তাদের মধ্যে নার্সিং ইনষ্টিটিউটে ২০১৩ সালের ২১ আগষ্ট থেকে ডেপুটেশনে রয়েছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র ষ্টাফ নার্স তানজিনা খানম ও ২০২৩ সাল থেকে মোসাম্মৎ তাহেরা বেগম। বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহছেনা বেগম(১) এখানে ডেপুটেশনে রয়েছেন ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারী থেকে। মোশারফ হোসেন ২০১৬ সালের ২ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউটে যোগ দেন।
অভিযোগ মিলেছে প্রশিক্ষক মোশারফের নেতৃত্বে একটি চক্র এই ইনষ্টিটিউটকে অনিয়মের আখড়ায় পরিনত করেছেন। সেকারনে ইনষ্টিটিউটকে সুষ্টু ব্যবস্থাপনায় ফেরাতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয় এক ইনস্ট্রাকটর ইনচার্জকে। সালাউদ্দিন মাতবর নামের ওই ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জকে এই চক্রটি নানা ভাবে হেনস্থা করে বিদেয় করে। ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রæয়ারী তিনি এখানে যোগদান করেন। এরপর ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বদলী হয়ে যান। তার পরবর্তীতে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হয়ে আসা মোসাম্মৎ মিরন্নাহার বেগমও রয়েছেন আতঙ্কে।
সুত্র জানায়, নতুন ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জ পদে যোগদান করার পর তার কাছে আগের নিয়মে অর্থাৎ নকল করে পরীক্ষা দেয়ার আবদার নিয়ে আসে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। মিরন্নাহার তাদের আবেদনে সারা না দেয়ায় বাধ্য হয় স্বাভাবিক নিয়মেই পরীক্ষা দিতে হয়। ৩য় বর্ষের পরীক্ষার্থীরা বলে আগের নিয়মে পরীক্ষা নিতে হবে। ফাষ্ট ইয়ারে অনেক পড়াশুনা করছি। স্যাররা অবজেকটিভ বলে দেয়। বই দেখে উত্তর লিখতে দেয়া হয়। নকলমুক্ত পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার সময় ৩০ জন করে লোক নিয়োগ দেয়া হয় নকল সরবরাহের জন্য। বেসরকারী নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিতাস নার্সিং কলেজ, ইউনাইটেড নার্সিং কলেজ ও মাহবুবুর রহমান নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র এটি। ছুটির ক্ষেত্রেও নিয়মের বালাই নেই। বছরে ২৮ দিন ছুটির স্থলে ৩ মাসও কাটিয়েছে অনেকে। শহরে মোশারফের বহুতল বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকে ছাত্ররা। সেকারনে তাদেরকে ব্যবহার করে নার্সিং ইনষ্টিটিউটে বিভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান ইনষ্ট্রাক্টর ইনচার্জ মোসাম্মৎ মিরন্নাহার বেগম এখানে যোগদান করার পর এ বছরের ১৬ জানুয়ারী এবং ২২ জুন দুটি অফিস আদেশ করেন। যাতে নার্সিং ইনষ্ট্রাক্টরদের অফিস সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থেকে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস, ল্যাব এবং হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস পরিদর্শনসহ অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে বলা হয়।
নার্সিং প্রশিক্ষক মোশারফ হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এটি আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এর সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করবোনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিং ইনষ্টিটিউট ইনষ্ট্রাকটর ইনচার্জ মোসাম্মৎ মিরন্নাহার বেগম বলেন, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্য্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম চলছে এখানে। অনিয়মকেই এখানে নিয়ম বানানো হয়েছে। শিক্ষকরা ক্লাসে আগ্রহী নন। অনিয়মগুলো কিভাবে দূর করা যায় তা নিয়ে শিক্ষকদের একাধিক বার বৈঠক করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের ক্লাসে পাঠাতে পারিনি।