ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নারীদের ভূমি অধিকার ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত এআরডি-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠক    সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে: ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল বিজয়নগরে স্বামীর সঙ্গে অভিমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেতন-ভাতা ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ইপিআই পোর্টারদের মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলো তরী বাংলাদেশ বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর কসবায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান ও গলা কেটে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণগ্রহীতা আবদুল কাদির গ্রেফতার আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে

প্রান্তিক অঞ্চলে দন্ত চিকিৎসকদের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান

Oplus_16908288

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নগরাঞ্চলের তুলনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্পন্ন দন্ত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় এসব এলাকার মানুষ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। এই বাস্তবতায় প্রান্তিক অঞ্চলে কর্মরত দন্ত চিকিৎসকরা নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
চ্যালেঞ্জের মূল কারণগুলো-
দন্ত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রান্তিক অঞ্চলে মৌলিক অবকাঠামো ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব অন্যতম বড় সমস্যা। অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা, এক্স-রে বা উন্নত চিকিৎসা উপকরণ নেই।
এ ছাড়া দক্ষ দন্ত চিকিৎসকের সংকটও তীব্র। কর্মপরিবেশ, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং ক্যারিয়ার সম্ভাবনার কারণে চিকিৎসকরা শহরমুখী হয়ে পড়ছেন। ফলে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মৌখিক চিকিৎসা প্রায় অনুপস্থিত।
জনগণের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতিও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেকেই মুখের সমস্যা গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা—বেশিরভাগ নিম্নআয়ের পরিবার ব্যয়বহুল দন্ত চিকিৎসা নিতে পারেন না।
এ ছাড়া সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থা, পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং সরকারি সহায়তার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সমাধানের দিকনির্দেশনা- ওরাল ও ডেন্টাল সার্জন রোটারিয়ান ডা. সাফওয়ান মোঃ সাইদুজ্জামান নাবিল জানান, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
তার মতে, ভ্রাম্যমাণ দন্ত ক্লিনিক চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, টেলি-ডেন্টিস্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইন কনসালটেশন চালু করা গেলে চিকিৎসকদের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা যাবে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রণোদনা বাড়ানো, চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও আবাসনের ব্যবস্থা, এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান—এসব উদ্যোগ নিলে প্রান্তিক জনগণের মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা অনেক উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।
ডা. নাবিল আরও বলেন, “স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে মৌখিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা গেলে প্রতিরোধমূলক সেবার হার বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নেবে।”
উপসংহার- সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রান্তিক অঞ্চলের মৌখিক স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক প্রয়াসই পারে “সবার জন্য মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা” বাস্তবায়ন করতে।
লেখক: রোটারিয়ান ডা. সাফওয়ান মোঃ সাইদুজ্জামান নাবিল ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন, চিফ কনসালটেন্ট – ডা. নাবিলস ডেন্টাল কেয়ার।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

নারীদের ভূমি অধিকার ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রান্তিক অঞ্চলে দন্ত চিকিৎসকদের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান

Update Time : ১২:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নগরাঞ্চলের তুলনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্পন্ন দন্ত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় এসব এলাকার মানুষ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। এই বাস্তবতায় প্রান্তিক অঞ্চলে কর্মরত দন্ত চিকিৎসকরা নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
চ্যালেঞ্জের মূল কারণগুলো-
দন্ত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রান্তিক অঞ্চলে মৌলিক অবকাঠামো ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব অন্যতম বড় সমস্যা। অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা, এক্স-রে বা উন্নত চিকিৎসা উপকরণ নেই।
এ ছাড়া দক্ষ দন্ত চিকিৎসকের সংকটও তীব্র। কর্মপরিবেশ, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং ক্যারিয়ার সম্ভাবনার কারণে চিকিৎসকরা শহরমুখী হয়ে পড়ছেন। ফলে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মৌখিক চিকিৎসা প্রায় অনুপস্থিত।
জনগণের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতিও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেকেই মুখের সমস্যা গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা—বেশিরভাগ নিম্নআয়ের পরিবার ব্যয়বহুল দন্ত চিকিৎসা নিতে পারেন না।
এ ছাড়া সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থা, পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং সরকারি সহায়তার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সমাধানের দিকনির্দেশনা- ওরাল ও ডেন্টাল সার্জন রোটারিয়ান ডা. সাফওয়ান মোঃ সাইদুজ্জামান নাবিল জানান, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
তার মতে, ভ্রাম্যমাণ দন্ত ক্লিনিক চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, টেলি-ডেন্টিস্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইন কনসালটেশন চালু করা গেলে চিকিৎসকদের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা যাবে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রণোদনা বাড়ানো, চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও আবাসনের ব্যবস্থা, এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান—এসব উদ্যোগ নিলে প্রান্তিক জনগণের মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা অনেক উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।
ডা. নাবিল আরও বলেন, “স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে মৌখিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা গেলে প্রতিরোধমূলক সেবার হার বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নেবে।”
উপসংহার- সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রান্তিক অঞ্চলের মৌখিক স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক প্রয়াসই পারে “সবার জন্য মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা” বাস্তবায়ন করতে।
লেখক: রোটারিয়ান ডা. সাফওয়ান মোঃ সাইদুজ্জামান নাবিল ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন, চিফ কনসালটেন্ট – ডা. নাবিলস ডেন্টাল কেয়ার।