ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে: ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল বিজয়নগরে স্বামীর সঙ্গে অভিমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেতন-ভাতা ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ইপিআই পোর্টারদের মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলো তরী বাংলাদেশ বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর কসবায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান ও গলা কেটে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণগ্রহীতা আবদুল কাদির গ্রেফতার আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজা পাচারকালে মা-ছেলে গ্রেফতার রমজানের অনুপ্রেরণায় সাতটি রোজা সম্পন্ন করেছে মুহাম্মদ আয়ানুর রহমান তার সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা পরিবারের
ট্রাফিক অফিস

“সরকারি কোষাগারে নয়, নগদেই জরিমানা—ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ট্রাফিক পুলিশের নামে চলছে নগদে জরিমানা আদায়ের গোপন খেলা! চালকরা বলছেন, আটক করার পর কাগজের স্লিপ ধরিয়ে ট্রাফিক অফিসে পাঠানো হয়, আর সেখানেই শুরু হয় ‘ডিল’।
“নগদ দেবেন, না ব্যাংকে?”—প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব জরিমানা জমা পড়ার কথা ছিল ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু নেই কোনো রশিদ, নেই কোনো অফিসিয়াল স্লিপ!
সিএনজি চালক জাবেদ মিয়া বলেন, গাড়ি আটক করার পর ট্রাফিক পুলিশ একটি কাগজ দেয়। ওই কাগজ নিয়ে ট্রাফিক অফিসে গিয়ে বড় স্যারের কাছে স্লিপটা দিলে বলে মামলা দিয়েছি, ভিতরে যান। ভিতরের রুমে গেলে একজন ক্যাশিয়ার বলেন, জরিমানা হয়েছে, নগদ না ব্যাংকে দিবেন? নগদ বললেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে, কিন্তু কোনো ধরনের স্লিপ দেওয়া হচ্ছে না।
আরেক চালক বকুল ও পলাশের ভাষায়, “থানায় গেলেই ভিতরে নিয়ে বলে জরিমানা হয়েছে, নগদ দেন, গাড়ি নিয়ে যান। আমরা ভয়ে নগদ দিয়ে দেই।”
সিএনজি মালিক সমিতির সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া জানালেন, “ নগদ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। শহরে সিএনজি জরুরি প্রয়োজনে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ অনিয়ম।”
শুধু জরিমানা নয়, ট্রাফিক আইন ভেঙে ভারি যানবাহন শহরে ঢুকছে দিনের বেলাতেই। নিয়ম অনুযায়ী রাত ৯ টার পর এসব গাড়ি প্রবেশ করতে পারলেও, অভিযোগ রয়েছে—ঘুষ দিয়েই দিনের আলোতে শহরে ঢুকছে তারা।ফলে শহরের রাস্তা জ্যামে অচল, আর দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সরকার হারাবে রাজস্ব, আর শহর হারাবে শৃঙ্খলা।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মীর আনোয়ারের সঙ্গে, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে: ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল

ট্রাফিক অফিস

“সরকারি কোষাগারে নয়, নগদেই জরিমানা—ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Update Time : ১১:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ট্রাফিক পুলিশের নামে চলছে নগদে জরিমানা আদায়ের গোপন খেলা! চালকরা বলছেন, আটক করার পর কাগজের স্লিপ ধরিয়ে ট্রাফিক অফিসে পাঠানো হয়, আর সেখানেই শুরু হয় ‘ডিল’।
“নগদ দেবেন, না ব্যাংকে?”—প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব জরিমানা জমা পড়ার কথা ছিল ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু নেই কোনো রশিদ, নেই কোনো অফিসিয়াল স্লিপ!
সিএনজি চালক জাবেদ মিয়া বলেন, গাড়ি আটক করার পর ট্রাফিক পুলিশ একটি কাগজ দেয়। ওই কাগজ নিয়ে ট্রাফিক অফিসে গিয়ে বড় স্যারের কাছে স্লিপটা দিলে বলে মামলা দিয়েছি, ভিতরে যান। ভিতরের রুমে গেলে একজন ক্যাশিয়ার বলেন, জরিমানা হয়েছে, নগদ না ব্যাংকে দিবেন? নগদ বললেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে, কিন্তু কোনো ধরনের স্লিপ দেওয়া হচ্ছে না।
আরেক চালক বকুল ও পলাশের ভাষায়, “থানায় গেলেই ভিতরে নিয়ে বলে জরিমানা হয়েছে, নগদ দেন, গাড়ি নিয়ে যান। আমরা ভয়ে নগদ দিয়ে দেই।”
সিএনজি মালিক সমিতির সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া জানালেন, “ নগদ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। শহরে সিএনজি জরুরি প্রয়োজনে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ অনিয়ম।”
শুধু জরিমানা নয়, ট্রাফিক আইন ভেঙে ভারি যানবাহন শহরে ঢুকছে দিনের বেলাতেই। নিয়ম অনুযায়ী রাত ৯ টার পর এসব গাড়ি প্রবেশ করতে পারলেও, অভিযোগ রয়েছে—ঘুষ দিয়েই দিনের আলোতে শহরে ঢুকছে তারা।ফলে শহরের রাস্তা জ্যামে অচল, আর দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সরকার হারাবে রাজস্ব, আর শহর হারাবে শৃঙ্খলা।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মীর আনোয়ারের সঙ্গে, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।