মালদ্বীপের শিক্ষাখাতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান, প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ এবং মিয়াঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আহমেদ মুত্তাকী।
শনিবার (২১ জুন) রাজধানী মালের ইমাজউদ্দিন স্কুল অডিটোরিয়ামে মিয়াঞ্জ কলেজের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি সাজিধা মোহাম্মদ।
দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে আহমেদ মুত্তাকী জানান, এটি তার ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি মালদ্বীপে বসবাসরত সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও গর্বের বিষয়।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি সাজিধা মোহাম্মদ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফার্স্ট লেডি বলেন, “মিয়াঞ্জ কলেজ স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও দক্ষ প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে মালদ্বীপের জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।” তিনি শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আহমেদ মুত্তাকী বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, এটি মালদ্বীপে কর্মরত সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য গর্ব ও মর্যাদার বিষয়। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন সম্মান অর্জন করতে পেরে আমি গভীরভাবে আনন্দিত ও সম্মানিত।”
জানা যায়, আহমেদ মুত্তাকীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে। প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মালদ্বীপে বসবাস করছেন। প্রবাস জীবনের শুরুতে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও বর্তমানে তিনি মালদ্বীপের একজন সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
রাজধানী মালেসহ বিভিন্ন দ্বীপে প্রতিষ্ঠিত মিয়াঞ্জ কলেজের ১৭টি শাখার মাধ্যমে তিনি দেশটির শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। পাশাপাশি মালদ্বীপে বাংলাদেশি খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও তিনি অন্যতম পরিচিত উদ্যোক্তা হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









