ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পরিবেশ সেবার মানোন্নয়ন ও নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)-এর সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুপ্রেরণায় গঠিত এসিজি-পরিবেশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খাল ও পুকুর দখল-ভরাট, ড্রেনে ময়লা ফেলা, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনচালিত রিকশা-অটোরিকশা বৃদ্ধিসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পৌর নাগরিকদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পৌরসভা কাজ করছে।
তিনি বলেন, অনুমোদনবিহীন ইঞ্জিনচালিত রিকশা ও অটোরিকশা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনচালিত রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নম্বর প্লেট দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পৌর প্রশাসক আরও জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে পরীক্ষামূলকভাবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের নিজস্ব জনবল ও যানবাহনের মাধ্যমে বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রাখা হবে। পরে পৌরসভা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং ফিল্ডে নিয়ে যাবে।
তিনি জানান, সনাকের সঙ্গে পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্নিঘাট এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য দুটি বড় বিন দেওয়া হয়েছে। বিন পূর্ণ হয়ে গেলে পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া শহরের ২২টি ড্রেন সংস্কার ও নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এসিজি-পরিবেশের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে মধ্যপাড়া-শান্তিনগর এলাকার খাল দখলমুক্তকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনের ওপর স্ল্যাব নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন পৌর প্রশাসক।
গিরিধারি মন্দির সংলগ্ন পুকুর কচুরিপানামুক্ত করা, পুকুরে বাথরুমের সংযোগ ও ভাসমান টয়লেটের সমস্যা সমাধান, মন্দিরে প্রবেশের রাস্তা এবং ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সনাক সদস্য মো. আরজু মিয়া বলেন, সনাক জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নাগরিক দুর্ভোগের বিভিন্ন তথ্য পৌর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি জয়দুল হোসেন বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কিছু দৃশ্যমান কাজ করেছে, যা পৌরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সভায় উঠে আসা বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে লাইট স্থাপন, বিন সরবরাহ এবং মধ্যপাড়া ও গিরিধারি মন্দির এলাকা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি পৌর প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।
সনাক সদস্য মো. মোক্তার হোসেন শব্দদূষণ রোধে পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, পৌর প্রশাসন বিভিন্ন পুকুর ও খাল পরিষ্কারসহ ড্রেনের কাজ করছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ বিষয়ক এসিজির সমন্বয়ক অলি আহাদ রতন বলেন, পরিবেশ সেবার মানোন্নয়নে এসিজি-পরিবেশ পৌর নাগরিকদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছে। সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধান হলে মধ্যপাড়া-শান্তিনগর ও গিরিধারি মন্দির এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে।
এসিজির সহসমন্বয়ক নুসরাত জাহান বুশরা নারীদের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের দাবি জানান।
সভায় বার্নিঘাট, মধ্যপাড়া-শান্তিনগর ও গিরিধারি মন্দির এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, এসিজি ও ইয়েস সদস্যরা বক্তব্য দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কনজারভেন্সি সেকশনের সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল হক, সংরক্ষণ পরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফাসহ পৌর এলাকার সাধারণ নাগরিকরা।
সভায় বক্তারা সাবেরা সোবহান স্কুল থেকে রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পৌরসভার আওতাধীন সড়কসহ শান্তিনগর এলাকার সড়কের বেহাল দশা থেকে নাগরিকদের দুর্ভোগমুক্ত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আবদুর রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










