নীরব শহরের ব্যস্ত একটি মোড়। সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে হঠাৎ থমকে গেল পথচারীদের পা। রাস্তার পাশে পড়ে আছে এক নিথর নবজাতক (১দিন) কন্যাশিশুর দেহ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তায় রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে স্থানীয়দের। শিশুটির শরীর জুড়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন, বিবর্ণ চামড়ায় লেগে থাকা ধুলা-মাটি যেন জানিয়ে দিচ্ছে কতটা নিষ্ঠুর ছিল বিদায়টা।
এ শিশুর কোনো নাম নেই, কোনো গলা জড়িয়ে ধরার মা নেই, নেই বাবার আদর কিংবা কোন আত্মীয়ের করুণ কাঁদুনি। অথচ কিছুক্ষণ আগেও সে পৃথিবীতে এসেছিল নতুন আশার বার্তা হয়ে।
ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই এই নিষ্পাপ শিশুটিকে ছুঁড়ে ফেলা হয় নির্মমতার শহরে। কে জানে, হয়তো কোনো নারী নির্যাতনের কুৎসিত ইতিহাস, অথবা সমাজের রক্ষণশীলতার ভয়াল থাবাই এর পেছনে দায়ী।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত শিশুটির পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় শেষ বিদায়ের দায়িত্ব নেয় মানবিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। শিশুটিকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়। তারা জানাজায় অংশ নেয়, তাদের চোখে জল, হৃদয়ে ক্ষোভ।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তদন্ত চলছে, অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা শুধু একটি কন্যাশিশুর মৃত্যু নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের বিবেকের এক নির্মম প্রতিবিম্ব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











