ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান সূর্যমুখীকিন্ডার গার্টেন এন্ড গার্লস হাইস্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত চেয়ার মার্কা প্রার্থী আয়েশা আক্তারের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মী সভা রেজাউল হক বুলুর অকাল প্রয়াণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের শোক ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্সের মেয়াদ পূর্তির ৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার চেক পেলেন এস এম সেলিম ইদ্রিস শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে যুক্তরাজ্য কৃষকদলের পুষ্পস্তবক অর্পণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে ১০০টি কম্বল প্রদান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দৈনিক ইত্তেফাকের ৭৩ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরাইলে জেএসডি প্রার্থীর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকাল ২০২৫ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

‘অভিমানী’ শিশুর জন্মদিন পালন তুলির আঁচড়ে!

ছবিটি দেখে প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্তি হলেও, ব্যাখ্যা মেলার পরই পরিষ্কার হয়ে যায়—এটি জন্মদিনের আয়োজন। ছবিতে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট মানুষ। সামনে ‘ডল কেক’, অদূরে আরেকটি কেক, চারপাশে বেলুন আর নানা সাজসজ্জা। কিন্তু এ সবই বাস্তবে নয়, শিশুর আঁকা ছবিতে।
রং-তুলিতে জন্মদিন আঁকা বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও, পাঁচ বছরের শিশু শুভ্রজিৎ পালের ক্ষেত্রে ঘটনাটি একেবারেই ভিন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্তে জন্মদিন না পালানোয় অভিমান থেকে সে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলে নিজের কল্পনার জন্মদিন। অথচ শুভ্রজিতের আঁকায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই, শুধু আগ্রহ আর কল্পনার টানেই এই সৃষ্টি।
শুভ্রজিৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা। স্থানীয় মেধা বিকাশ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্লে-গ্রেডের শিক্ষার্থী। বাবা বিশ্বজিৎ পাল বাবু সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। রবিবার ছিলো শুভ্রজিতের জন্মদিন। বিকেলেই পরিবারের সবাইকে চমকে দিয়ে সে ছবিটি আঁকে।
পরিবার জানায়, কয়েক মাস ধরেই জন্মদিন নিয়ে নানান পরিকল্পনা করছিলো শুভ্রজিৎ। প্রতিদিন ঘরে নতুন নতুন আইডিয়া হাজির করত—কেক, সাজসজ্জা, নিমন্ত্রণ—সব কিছু নিয়েই ছিলো তার উচ্ছ্বাস। তবে মায়ের অসুস্থতার কারণে এ বছর জন্মদিন না পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। বড় ভাই রুদ্রজিৎ (কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী) পুজোর ছুটিতে এলে আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু জানান—
“উপহারসহ নানা কিছু দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু শুভ্র কোনোভাবেই মানতে চাইছিলো না। সন্ধ্যায় অভিমান করে বললো—‘তোমরা কেউ আমার কথা শোনো না।’ কান্নার পর হঠাৎ ওষুধ কম্পানির একটা প্যাডে আঁকা শুরু করে। কিছুক্ষণ পর আঁকা ছবিটা দেখিয়ে বললো—‘বাবা, এইতো আমার জন্মদিন।’ ছবিতে দুটি কেক আঁকার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বললো—‘দাদা এলে আরেকটা কাটবো।’ মুহূর্তটা আমাদের আবেগে ভাসিয়ে দেয়।”
রাত সাড়ে ১০টার পর পরিবারের সুহৃদরা কেক নিয়ে হাজির হন। শেষ পর্যন্ত ছোট্ট করে হলেও কেক কেটে জন্মদিন পালন হয় শুভ্রজিতের।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, আঁকার প্রতি শুভ্রজিতের আগ্রহ অনেক। এখনো তাকে শেখানো হয়নি, কিন্তু মনের ভেতর গেঁথে থাকা জন্মদিনের ইচ্ছে কল্পনায় ফুটিয়ে তোলায় সবাই অবাক হয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান

‘অভিমানী’ শিশুর জন্মদিন পালন তুলির আঁচড়ে!

Update Time : ০২:২৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবিটি দেখে প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্তি হলেও, ব্যাখ্যা মেলার পরই পরিষ্কার হয়ে যায়—এটি জন্মদিনের আয়োজন। ছবিতে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট মানুষ। সামনে ‘ডল কেক’, অদূরে আরেকটি কেক, চারপাশে বেলুন আর নানা সাজসজ্জা। কিন্তু এ সবই বাস্তবে নয়, শিশুর আঁকা ছবিতে।
রং-তুলিতে জন্মদিন আঁকা বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও, পাঁচ বছরের শিশু শুভ্রজিৎ পালের ক্ষেত্রে ঘটনাটি একেবারেই ভিন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্তে জন্মদিন না পালানোয় অভিমান থেকে সে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলে নিজের কল্পনার জন্মদিন। অথচ শুভ্রজিতের আঁকায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই, শুধু আগ্রহ আর কল্পনার টানেই এই সৃষ্টি।
শুভ্রজিৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা। স্থানীয় মেধা বিকাশ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্লে-গ্রেডের শিক্ষার্থী। বাবা বিশ্বজিৎ পাল বাবু সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। রবিবার ছিলো শুভ্রজিতের জন্মদিন। বিকেলেই পরিবারের সবাইকে চমকে দিয়ে সে ছবিটি আঁকে।
পরিবার জানায়, কয়েক মাস ধরেই জন্মদিন নিয়ে নানান পরিকল্পনা করছিলো শুভ্রজিৎ। প্রতিদিন ঘরে নতুন নতুন আইডিয়া হাজির করত—কেক, সাজসজ্জা, নিমন্ত্রণ—সব কিছু নিয়েই ছিলো তার উচ্ছ্বাস। তবে মায়ের অসুস্থতার কারণে এ বছর জন্মদিন না পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। বড় ভাই রুদ্রজিৎ (কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী) পুজোর ছুটিতে এলে আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু জানান—
“উপহারসহ নানা কিছু দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু শুভ্র কোনোভাবেই মানতে চাইছিলো না। সন্ধ্যায় অভিমান করে বললো—‘তোমরা কেউ আমার কথা শোনো না।’ কান্নার পর হঠাৎ ওষুধ কম্পানির একটা প্যাডে আঁকা শুরু করে। কিছুক্ষণ পর আঁকা ছবিটা দেখিয়ে বললো—‘বাবা, এইতো আমার জন্মদিন।’ ছবিতে দুটি কেক আঁকার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বললো—‘দাদা এলে আরেকটা কাটবো।’ মুহূর্তটা আমাদের আবেগে ভাসিয়ে দেয়।”
রাত সাড়ে ১০টার পর পরিবারের সুহৃদরা কেক নিয়ে হাজির হন। শেষ পর্যন্ত ছোট্ট করে হলেও কেক কেটে জন্মদিন পালন হয় শুভ্রজিতের।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, আঁকার প্রতি শুভ্রজিতের আগ্রহ অনেক। এখনো তাকে শেখানো হয়নি, কিন্তু মনের ভেতর গেঁথে থাকা জন্মদিনের ইচ্ছে কল্পনায় ফুটিয়ে তোলায় সবাই অবাক হয়েছেন।