ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান সূর্যমুখীকিন্ডার গার্টেন এন্ড গার্লস হাইস্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত চেয়ার মার্কা প্রার্থী আয়েশা আক্তারের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মী সভা রেজাউল হক বুলুর অকাল প্রয়াণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের শোক ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্সের মেয়াদ পূর্তির ৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার চেক পেলেন এস এম সেলিম ইদ্রিস শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে যুক্তরাজ্য কৃষকদলের পুষ্পস্তবক অর্পণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে ১০০টি কম্বল প্রদান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দৈনিক ইত্তেফাকের ৭৩ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরাইলে জেএসডি প্রার্থীর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকাল ২০২৫ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
বিএনপির নেতা সাংবাদিককে মারধর

‘ছাত্রলীগকর্মীকে’ মারপিটের ভিডিও করায় বিএনপি নেতা সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

Oplus_131072

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এক ‘ছাত্রলীগর্মীকে’ মারধর করার ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দৈনিক কালবেলা ও এনটিভি অনলাইনের নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে. এম. বশির উদ্দিন তুহিনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এ সময় নাগরিক কমিটির ব্যানারে কয়েকজন ফুল দিতে গেলে জি. এম. সোহেল নামে একজনকে ‘ছাত্রলীগকর্মী’ আবহিত করে তাকে মারধর শুরু করেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ সোহেলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার সময়ও তাকে মারধর করতে থাকেন তারা। এ সময় সাংবাদিক মাহমুদ ভিডিও করতে গেলে তাকে মারধর করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিন ও তার ভাতিজা কে. এম. মারজান ও কে. এম. নাসিরের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আমার ওপর হামলা করে। আমি কেনো ভিডিও করছি- এ কথা বলেই মারপিট শুরু করে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে আমি মুখ, মাথা ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হই।

অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে. এম. বশির উদ্দিন তুহিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমি শহীদ মিনারে ছিলাম আর ঘটনা ঘটেছে বাইরে। এ বিষয়ে বশিরই ভালো বলতে পারবে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল আলম জানান, নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সম্মিলিতভাবে ফুল দিয়ে শহীদ মিনার থেকে চলে যাওয়ার পর নাগরিক কমিটির একাংশের নেতাকর্মীরা ফুল দিতে আসে। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগকর্মী সোহেলও ছিল। তাকে দেখে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হট্টগোল শুরু করে। সোহেল যে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত সেটির প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ সোহেলকে হেফাজতে নেয়ার সময় তাকে মারধর করতে থাকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিক মাহমুদকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mamun

হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান

বিএনপির নেতা সাংবাদিককে মারধর

‘ছাত্রলীগকর্মীকে’ মারপিটের ভিডিও করায় বিএনপি নেতা সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

Update Time : ০৮:১৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এক ‘ছাত্রলীগর্মীকে’ মারধর করার ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দৈনিক কালবেলা ও এনটিভি অনলাইনের নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে. এম. বশির উদ্দিন তুহিনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এ সময় নাগরিক কমিটির ব্যানারে কয়েকজন ফুল দিতে গেলে জি. এম. সোহেল নামে একজনকে ‘ছাত্রলীগকর্মী’ আবহিত করে তাকে মারধর শুরু করেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ সোহেলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার সময়ও তাকে মারধর করতে থাকেন তারা। এ সময় সাংবাদিক মাহমুদ ভিডিও করতে গেলে তাকে মারধর করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিন ও তার ভাতিজা কে. এম. মারজান ও কে. এম. নাসিরের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আমার ওপর হামলা করে। আমি কেনো ভিডিও করছি- এ কথা বলেই মারপিট শুরু করে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে আমি মুখ, মাথা ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হই।

অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে. এম. বশির উদ্দিন তুহিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমি শহীদ মিনারে ছিলাম আর ঘটনা ঘটেছে বাইরে। এ বিষয়ে বশিরই ভালো বলতে পারবে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল আলম জানান, নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সম্মিলিতভাবে ফুল দিয়ে শহীদ মিনার থেকে চলে যাওয়ার পর নাগরিক কমিটির একাংশের নেতাকর্মীরা ফুল দিতে আসে। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগকর্মী সোহেলও ছিল। তাকে দেখে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হট্টগোল শুরু করে। সোহেল যে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত সেটির প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ সোহেলকে হেফাজতে নেয়ার সময় তাকে মারধর করতে থাকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিক মাহমুদকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।