Brahmanbaria ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Last News :
আখাউড়া স্থলবন্দর চার দিনে ছুটির ঘোষণা  আবেশের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ও মেধাবী চারশত  শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রধান কাঙ্ক্ষিত ইজারামূল্য না পাওয়ায় একমাত্র পশুহাটটি পরিচালনা করবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ প্রদান অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ের জায়গায় বাজার ইজার দিয়েছেন পৌরসভা, নিরব রেল কর্তৃপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়“ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৪” এর উদ্বোধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইজাজ হত্যার মূল আসামি  ফারাবি অস্ত্রসহ গ্রেফতার। সরাইলে ৪২ ভূমিহীন পরিবারের জন্য ভূমির দাবীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান হলেন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাল স্বাক্ষরে মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিতের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ‘আরিফাইল মসজিদ’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩
  • ৮১৮ Time View

মুঘল আমলের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনাগুলোর একটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ‘আরিফাইল মসজিদ’। ১৬৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরিফাইল গ্রামে অপরূপ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয় এ মসজিদটি। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৭০ ফুট এবং প্রস্থে ২০ ফুট। দেওয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রাচীন স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর মসজিদটি দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো মনে হয়।

মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল আয়তনের একটি দিঘি মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা এ দিঘির নামকরণ করেছেন ‘সাগরদিঘি’। দক্ষিণে রয়েছে দুটি কবর, যা ‘জোড়া কবর’ বা ‘রহস্যময় কবর’ নামে পরিচিত। কবর দুটিতেও মুঘল স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর প্রভাব বিদ্যমান। জোড়া কবর নিয়ে রয়েছে অনেক জনশ্রুতি ও কল্পকাহিনি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এক সময় ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী ছিল সরাইল। বারোভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর শাসন ছিল এখানে। ঈশাখাঁ আরিফাইল মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী জোড়া কবর নির্মাণ করেন। অনেকের ধারণা ঈশাখাঁর দুই স্ত্রী ইন্তেকাল করলে তাদের মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়। কবর দুটি পাশাপাশি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে ‘জোড়া কবর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। মসজিদের দেওয়াল অতি পুরু হওয়ার কারণে ভেতরের যে কোনো শব্দ দেওয়ালে বাধা পেয়ে একটা ভৌতিক প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হয়। এ প্রতিধ্বনিকে অনেকেই গায়েবি কোনো আলামত মনে করে থাকেন। প্রতিদিন আরিফাইল মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর-‘হাইয়া আলাস্ সালাহ’। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এ মসজিদে। আর জুমার দিন এখানে থাকে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড অংশের কাছেই এর অবস্থান। সরাইল উপজেলা চত্বর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে মসজিদটি অবস্থিত।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

আখাউড়া স্থলবন্দর চার দিনে ছুটির ঘোষণা 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ‘আরিফাইল মসজিদ’

Update Time : ০৫:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩

মুঘল আমলের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনাগুলোর একটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ‘আরিফাইল মসজিদ’। ১৬৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরিফাইল গ্রামে অপরূপ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয় এ মসজিদটি। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৭০ ফুট এবং প্রস্থে ২০ ফুট। দেওয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রাচীন স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর মসজিদটি দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো মনে হয়।

মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল আয়তনের একটি দিঘি মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা এ দিঘির নামকরণ করেছেন ‘সাগরদিঘি’। দক্ষিণে রয়েছে দুটি কবর, যা ‘জোড়া কবর’ বা ‘রহস্যময় কবর’ নামে পরিচিত। কবর দুটিতেও মুঘল স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর প্রভাব বিদ্যমান। জোড়া কবর নিয়ে রয়েছে অনেক জনশ্রুতি ও কল্পকাহিনি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এক সময় ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী ছিল সরাইল। বারোভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর শাসন ছিল এখানে। ঈশাখাঁ আরিফাইল মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী জোড়া কবর নির্মাণ করেন। অনেকের ধারণা ঈশাখাঁর দুই স্ত্রী ইন্তেকাল করলে তাদের মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়। কবর দুটি পাশাপাশি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে ‘জোড়া কবর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। মসজিদের দেওয়াল অতি পুরু হওয়ার কারণে ভেতরের যে কোনো শব্দ দেওয়ালে বাধা পেয়ে একটা ভৌতিক প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হয়। এ প্রতিধ্বনিকে অনেকেই গায়েবি কোনো আলামত মনে করে থাকেন। প্রতিদিন আরিফাইল মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর-‘হাইয়া আলাস্ সালাহ’। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এ মসজিদে। আর জুমার দিন এখানে থাকে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড অংশের কাছেই এর অবস্থান। সরাইল উপজেলা চত্বর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে মসজিদটি অবস্থিত।