Brahmanbaria ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Last News :
আখাউড়া স্থলবন্দর চার দিনে ছুটির ঘোষণা  আবেশের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ও মেধাবী চারশত  শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রধান কাঙ্ক্ষিত ইজারামূল্য না পাওয়ায় একমাত্র পশুহাটটি পরিচালনা করবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ প্রদান অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ের জায়গায় বাজার ইজার দিয়েছেন পৌরসভা, নিরব রেল কর্তৃপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়“ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৪” এর উদ্বোধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইজাজ হত্যার মূল আসামি  ফারাবি অস্ত্রসহ গ্রেফতার। সরাইলে ৪২ ভূমিহীন পরিবারের জন্য ভূমির দাবীতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান হলেন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাল স্বাক্ষরে মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিতের অভিযোগ

কোটি টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা পলাতক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১০০৭ Time View
স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শান্ত রায় নামের এক ছাত্রলীগ নেতা কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের শান্ত রায় ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় কয়েকটি লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযুক্ত শান্ত রায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
জানা যায়, শান্ত রাজনীতির পাশাপাশি সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। এলাকায় প্রচলিত আছে, চট্টগ্রামে তার পিতার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান আছে। এরই ভিত্তিতে তিনি এলাকায় বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন । পরে ব্যাংক রেটের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এতে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে তুলে দিতো শান্তর হাতে। কয়েক বছর ঠিকঠাকভাবেই লেনদেন করছিলেন শান্ত। কিন্তু গত শনিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই। অথচ শনিবার ও রোববার অনেককে টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তাই শুরু হয় কানাঘুষা। তখন বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকা নেয়ার তথ্য।
শান্ত রায় যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ,বাড়াইল গ্রামের হক সাব ৪০ লাখ,সুজন মিয়া ২০ লাখ,আব্বাস উদ্দিন ২০ লাখ ৬০ হাজার, সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস আট লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেব নাথ ৩ লাখ, নিলখী গ্রামের খোরশেদ আলম পাঁচ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ৩৯ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান রনি ৩ লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের শাহ জালাল ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের মাহফুজুর রহমান ৩ লাখ, নরসিংদীর বাদল মিয়া ৫ লাখ টাকা।
এছাড়া সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদ থেকে ছয় লাখ।বড়িকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম থেকে এক লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন শান্ত।
ভুক্তভোগী হক সাহেব জানান, ‘শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে আমার থেকে প্রায়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন। অন্য কারো থেকে টাকা নিতেন বলে আমার জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার মতো ৩০ থেকে ৪০ জন থেকেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন।
সুজন মিয়া বলেন, শান্ত আমার বন্ধু। তার বাবা চট্টগ্রামে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। স্বর্ণ ক্রয় করার কথা বলে কয়েক দিনের জন্য আমার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। গত শনিবার আমার টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ আছে।
শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলেই আমি আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম।’
অনেকের ধারনা, টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে শান্ত চোরাই পথে ভারত পালিয়ে গেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। শান্ত টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তবে অনেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাসের উপর টাকা দিয়েছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, মঙ্গলবার রাতে বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

আখাউড়া স্থলবন্দর চার দিনে ছুটির ঘোষণা 

কোটি টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা পলাতক

Update Time : ০১:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শান্ত রায় নামের এক ছাত্রলীগ নেতা কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের শান্ত রায় ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় কয়েকটি লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযুক্ত শান্ত রায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
জানা যায়, শান্ত রাজনীতির পাশাপাশি সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। এলাকায় প্রচলিত আছে, চট্টগ্রামে তার পিতার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান আছে। এরই ভিত্তিতে তিনি এলাকায় বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন । পরে ব্যাংক রেটের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এতে মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে তুলে দিতো শান্তর হাতে। কয়েক বছর ঠিকঠাকভাবেই লেনদেন করছিলেন শান্ত। কিন্তু গত শনিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই। অথচ শনিবার ও রোববার অনেককে টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তাই শুরু হয় কানাঘুষা। তখন বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকা নেয়ার তথ্য।
শান্ত রায় যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ,বাড়াইল গ্রামের হক সাব ৪০ লাখ,সুজন মিয়া ২০ লাখ,আব্বাস উদ্দিন ২০ লাখ ৬০ হাজার, সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস আট লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেব নাথ ৩ লাখ, নিলখী গ্রামের খোরশেদ আলম পাঁচ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ৩৯ লাখ, থোল্লাকান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান রনি ৩ লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের শাহ জালাল ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের মাহফুজুর রহমান ৩ লাখ, নরসিংদীর বাদল মিয়া ৫ লাখ টাকা।
এছাড়া সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদ থেকে ছয় লাখ।বড়িকান্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম থেকে এক লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন শান্ত।
ভুক্তভোগী হক সাহেব জানান, ‘শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে আমার থেকে প্রায়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন। অন্য কারো থেকে টাকা নিতেন বলে আমার জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার মতো ৩০ থেকে ৪০ জন থেকেও কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন।
সুজন মিয়া বলেন, শান্ত আমার বন্ধু। তার বাবা চট্টগ্রামে স্বর্ণের ব্যবসা করেন। স্বর্ণ ক্রয় করার কথা বলে কয়েক দিনের জন্য আমার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকাগুলো আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। গত শনিবার আমার টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ আছে।
শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলেই আমি আট লাখ টাকা দিয়েছিলাম।’
অনেকের ধারনা, টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে শান্ত চোরাই পথে ভারত পালিয়ে গেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। শান্ত টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তবে অনেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাসের উপর টাকা দিয়েছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, মঙ্গলবার রাতে বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।