ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর কসবায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান ও গলা কেটে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা কৃষি ব্যাংকের খেলাপী ঋণগ্রহীতা আবদুল কাদির গ্রেফতার আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজা পাচারকালে মা-ছেলে গ্রেফতার রমজানের অনুপ্রেরণায় সাতটি রোজা সম্পন্ন করেছে মুহাম্মদ আয়ানুর রহমান তার সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা পরিবারের এতিমদের সম্মানে সদর হাসপাতাল কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল হিপ ফ্র্যাকচারসহ জটিল হাড়ের চিকিৎসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাঃ মোঃ সোলায়মান সূর্যমুখীকিন্ডার গার্টেন এন্ড গার্লস হাইস্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত চেয়ার মার্কা প্রার্থী আয়েশা আক্তারের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মী সভা

বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে টানা চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কামাল মিয়া (আনুমানিক বয়স ৪০) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। জীবদ্দশায় তিনি বারবার পরিবারের খোঁজ করলেও কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তবে মৃত্যুর পর সদর মডেল থানার পুলিশের উদ্যোগে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর সহযোগিতায় অবশেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নিহতের দুই ভাই শাহিন ও জীবন এবং মামা ইব্রাহিম মিয়া মরদেহ গ্রহণ করেন। তবে তার মা, স্ত্রী ও সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন না।
নিহত কামাল মিয়া নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের বড়হিত গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে রাতে একজন যাত্রী নিয়ে নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কামাল মিয়া। পথে বিরামপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা চার দিন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করেন। তবে ১২ মে বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর সূত্র জানায়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় একাধিকবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় তার স্বজনদের সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে সদর মডেল থানার সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কামাল মিয়া পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। তার স্ত্রী বর্তমানে বিদেশে কর্মরত বলে জানা গেছে।
নিহতের মামা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, কামাল দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছিলেন। তার জীবন নিয়ে পরিবারে নানা অভিযোগ ও দূরত্ব ছিল। তবে মৃত্যুর পর মানবিক বিবেচনায় তারা মরদেহ গ্রহণ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বড়হিত গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামাল বারবার পরিবারের খোঁজ চেয়েছিলেন। আমরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ আসেনি। মৃত্যুর পর অবশেষে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের সন্ধান মেলে এবং মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।”
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশের উদ্যোগে স্বজনদের শনাক্ত করা হয় এবং মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।”
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর

বেঁচে থাকতে স্বজনহীন কামাল মিয়া, মৃত্যুর পর মরদেহ হস্তান্তর করল পুলিশ ও বাতিঘর

Update Time : ০৩:৩১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে টানা চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কামাল মিয়া (আনুমানিক বয়স ৪০) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। জীবদ্দশায় তিনি বারবার পরিবারের খোঁজ করলেও কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তবে মৃত্যুর পর সদর মডেল থানার পুলিশের উদ্যোগে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর সহযোগিতায় অবশেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নিহতের দুই ভাই শাহিন ও জীবন এবং মামা ইব্রাহিম মিয়া মরদেহ গ্রহণ করেন। তবে তার মা, স্ত্রী ও সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন না।
নিহত কামাল মিয়া নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের বড়হিত গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে রাতে একজন যাত্রী নিয়ে নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কামাল মিয়া। পথে বিরামপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা চার দিন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করেন। তবে ১২ মে বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর সূত্র জানায়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় একাধিকবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় তার স্বজনদের সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে সদর মডেল থানার সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কামাল মিয়া পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। তার স্ত্রী বর্তমানে বিদেশে কর্মরত বলে জানা গেছে।
নিহতের মামা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, কামাল দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছিলেন। তার জীবন নিয়ে পরিবারে নানা অভিযোগ ও দূরত্ব ছিল। তবে মৃত্যুর পর মানবিক বিবেচনায় তারা মরদেহ গ্রহণ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বড়হিত গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামাল বারবার পরিবারের খোঁজ চেয়েছিলেন। আমরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ আসেনি। মৃত্যুর পর অবশেষে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের সন্ধান মেলে এবং মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।”
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পুলিশের উদ্যোগে স্বজনদের শনাক্ত করা হয় এবং মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।”