ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে অভিমান করে মো. তানভীর (২৪) নামে এক যুবক বিষপান এবং ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাউরখন্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত তানভীর নবীনগর উপজেলার কাইতলা (উত্তর) ইউনিয়নের কোনাউর গ্রামের আক্কাস মিয়ার ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাউরখন্ড গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার মেয়ে মোছা. ময়না (২২)-এর সঙ্গে তানভীরের দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ময়নার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে সোমবার সকালে তানভীর তার বাড়িতে যান। এসময় ময়নার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে তানভীর সবার সামনে বিষপান করেন। পরে ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পাশের বাড়ির এক নারী দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের শয্যায় আহত তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, “ময়না আমার ভাইয়ের স্ত্রীর ছোটবোন, সেই সূত্রে আমার বিয়াইন হন। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হচ্ছিল না। শুধু দুই মিনিট কথা বলার উদ্দেশ্যে আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আমাকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি আমাকে মারধরেরও চেষ্টা করা হয়। ওই পরিস্থিতিতে আমি মাথা ঠিক রাখতে পারিনি।”
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এক যুবক গলা কেটে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 










